শীতকালীন বাংলার ঐতিহ্যের এক অনন্য নাম খাঁটি ঝোলা খেজুর গুড়। এটি কেবল একটি মিষ্টি খাবার নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি প্রাকৃতিক ‘সুপারফুড’। নিচে ঝোলা খেজুর গুড়ের বিস্তারিত বিবরণ, গুণগত মান এবং কার্যকারিতা তুলে ধরা হলো:
উৎপত্তি: চর কুকরী মুকরী অঞ্চলের খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস জ্বাল দিয়ে এটি তৈরি করা খাঁটি ঝোলা খেজুরের গুঁড়।
প্রক্রিয়া: কোনো প্রকার কৃত্রিম চিনি, হাইড্রোজ বা কেমিক্যাল ছাড়াই মাটির উনানে দীর্ঘ সময় রস জ্বাল দিয়ে ঘন ও তরল অবস্থায় নামিয়ে নেওয়া হয়।
ব্যবহার: পিঠা-পুলি, পায়েস, রুটি কিংবা চিড়া-মুড়ির সাথে খাওয়ার জন্য ঝোলা গুড় অতুলনীয়।
কোনো ভেজাল নেই: এতে কোনো প্রকার আটা, চিনি বা রং মেশানো থাকে না। ১০০% গ্রান্টি
প্রাকৃতিক ঘ্রাণ: গুড়ের বোতল বা পাত্র খুললেই খেজুর রসের একটি সতেজ ও মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।
ঘনত্ব: এটি খুব বেশি পাতলা হবে না, আবার জমে শক্তও হবে না। মধুর মতো একটি চটচটে ভাব থাকবে।
স্বাদ: এটি মুখে দিলে তিতা ভাব লাগবে না এবং গলার কাছে হালকা জ্বালাপোড়া করবে না (যা কেমিক্যাল থাকলে হতে পারে)।
খেজুর গুড় শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর প্রধান কিছু কার্যকারিতা হলো:
শক্তি বৃদ্ধি: এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা: খাওয়ার পর সামান্য গুড় খেলে হজম এনজাইম সক্রিয় হয়, যা বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
রক্তস্বল্পতা দূর করে: খেজুর গুড়ে প্রচুর আয়রন থাকে। নিয়মিত সেবনে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে এবং অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং মিনারেলস (যেমন- জিঙ্ক ও সেলেনিয়াম) শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
লিভার ডিটক্স: এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
সর্দি-কাশি উপশম: শীতকালীন সাধারণ সর্দি, কাশি ও হাঁপানি উপশমে হালকা গরম পানির সাথে গুড় মিশিয়ে খেলে আরাম পাওয়া যায়।
লগ-ইন Or Registerকরে আপনার প্রশ্নগুলি বিক্রেতার কাছে জমা দিন।
বিক্রেতার কাছে এখনও কেউ জিজ্ঞাসা করেনি।